
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল জোড়াতালি দিয়ে সেবা


গাইবান্ধা প্রতিনিধি
নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনায় জোড়াতালি দিয়ে চলছে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও অবকাঠোমোর অভাবে সেবা নিতে এসে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, উপরমহলে বারবার জানিয়েও জনবল পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতাল সূত্র জানায়, জেলার প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে এক হাজার ৫০০ জন রোগীকে সেবা দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতিদিন ২৭০ থেকে ৩০০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। চিকিৎসক সংকটের কারণে তাদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জেলাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটি সম্প্রতি ২৫০ শয্যা হিসেবে ঘোষণা করা হলেও চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ১৯ জন। যেখানে ১০০ শয্যার হাসপাতালের জন্য ৪২ জন চিকিৎসক দরকার হয়। ফলে চিকিৎসক সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে হাসপাতালটি। এরমধ্যে চক্ষু, চর্ম-যৌন ও সার্জারি বিভাগে কোনো চিকিৎসক নেই। গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে রোগীর স্বজনরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছেন। চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন রোগীরা। হাসপাতালের বারান্দায় রোগীদের অনেকে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ওয়ার্ডের ভেতরের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। শিশু ওয়ার্ডে গিয়েও একই অবস্থা দেখা গেছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করলেও নিয়মিত চিকিৎসক না আসায় সেবা না পেয়ে দিন শেষে হতাশা হয়ে ফিরতে হয়। সরকারিভাবে ওষুধ সরবরাহের কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছেনা। রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে যে পরিমাণ ওষুধ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় কাউন্টারে কাগজ জমা নিলেও সে পরিমাণ ওষুধ দেওয়া হচ্ছেনা। এ নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করলেও কোনো লাভ হয়নি। অন্যদিকে দীর্ঘ ৫ বছরের অধিক সময় হাসপাতালটিতে এক্স-রেসহ বিভিন্ন পরীক্ষা বন্ধ থাকায় ভোগান্তি ও হয়রানিতে পোহাচ্ছেন রোগীরা। সদর উপজেলার বল্লমঝড় থেকে সোমা বেগম তিন বছরের সন্তান ফেরদৌসিকে হাসপাতালে শিশু ডাক্তার দেখাতে নিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, ‘মোর ছলটাক ডাক্তার গাল মুখ দেখে এখান ফদ্দি লিখে দিল। ভালো-মন্দ কিছু বললো না। এই ক্যাঙকা রোগী দেখা মুই কিছুই বুঝনু না। ওই ডাক্তাররক এর আগে বাহিরোত দেখাছিনু। তখন ভালো করেই দেখছিলো।’ সদর উপজেলার রিফাইতপুর গ্রামের হামিলা বেগম (৫৫) বলেন, ‘হাসপাতালে ওয়াডত কোনো চকি ফাঁকা নাই। তিনদিন ধরে বারান্দাত আছি। সকাল লাগাত একবার ডাকতার আছি দেকি যায়। ভরদিন আর কোনো খবর নাই। এটে বসে থাকি দম বন্ধ হয়ে যায়। দক্ষিণ ধানগড়া গ্রামের ইসাহাক আলী (৪৮) বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার কোনো পরিবেশ নাই। চারদিক থেকে দুর্গন্ধে এখানে টেকা বড় দায়।’ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আসিফ রহমান বলেন, ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল চালানোয় রোগীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। জনবল ও অবকাঠামো সমস্যার কারণে এমন হচ্ছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুব হোসেন বলেন, সরকার থেকে চাহিদা মতো ওষুধ না পেলে রোগীদের কীভাবে দেব? হাসপাতালের সবকিছু নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়ে থাকে। কিন্তু রোগীর লোকজন এগুলো ময়লা ফেলে নোংরা করেন। চিকিৎসকের চাহিদা চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কয়েকবার আবেদন করা হয়েছে। কোনো সাড়া পাইনি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ